দিঘাট্রিপ.কম :বৃহস্পতিবার থেকে দিঘার প্রায় ৩০% হোটেল খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল দিঘা শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশান। সেই মতোই একাধিক হোটেল পর্যটকদের জন্য খুলে দিয়েছিল দরজা। ইতিমধ্যে দু'একটি হোটেলে অল্পবিস্তর পর্যটক এসেও …
দিঘাট্রিপ.কম : বৃহস্পতিবার থেকে দিঘার প্রায় ৩০% হোটেল খুলে দেওয়ার
কথা ঘোষণা করেছিল দিঘা শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশান। সেই মতোই একাধিক হোটেল
পর্যটকদের জন্য খুলে দিয়েছিল দরজা। ইতিমধ্যে দু'একটি হোটেলে অল্পবিস্তর পর্যটক
এসেও গিয়েছে। কিন্তু এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দিঘার স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীদের দাবী, এই মুহূর্তে
করোনা সংক্রমণ থেমে যাওয়ার পরিবর্তে বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে
পাল্লা দিয়ে। এমন সময় বহিরাগতদের আনাগোনা শুরু হলে এলাকায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে
পড়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসীরা।
সেই আশংকা থেকেই শুক্রবার বেলার দিকে
নিউদিঘা আরাধনা নারী কল্যান সমিতির সদস্যারা একাধিক হোটেলে গিয়ে হোটেল খোলার বিষয়ে
প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন। তাঁদের আবেদন, আপাতত জুন মাস পর্যন্ত হোটেলগুলি বন্ধ রাখা
হোক। আর তা না হলে এই বিষয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচী আরও জোরাল করা হবে বলে দাবী
বিক্ষোভরত মহিলাদের।
যদিও হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশান আগেই
জানিয়েছিল, দিঘার গ্রামের দিকের কোনও হোটেল আপাতত খোলা হচ্ছে না। শুধুমাত্র
শহরকেন্দ্রীক ও সমূদ্রের কাছাকাছি ৩০% হোটেল খোলা হবে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত
হোটেল খুলবে সেখানে সরকারী গাইডলাইন মেনে ৩০% ঘর ব্যবহার ও স্বল্প সংখ্যক কর্মীদের
কাজে রাখা হবে।
এছাড়াও হোটেলের ঘরগুলি থেকে পর্যটক
বেরিয়ে গেলে সেগুলিকে স্যানিটাইজ করা, পর্যটক সহ কর্মীদের প্রয়োজনীয় স্যানিটাইজের
জোগান দেওয়ার মতো বিষয়গুলি হোটেল মালিকদের দায়িত্বে রয়েছে। যে সমস্ত হোটেল সরকার
নির্দেশিত পথে চলবে তাঁরাই এখন হোটেল খুলবে বলে হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশানের বৈঠকে
বলা হয়েছে।
তবে নারী কল্যান সমিতির যুক্তি,
তাঁরা আশংকা করছেন, পর্যটকরা এলে দিঘার মানুষদের মধ্যে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা
থাকছে। তাই নিউদিঘা আরাধনা নারী কল্যান সমিতির সদস্যারা আপাতত হোটেল বন্ধের দাবীতে
অনড়। তাঁদের দাবী, শুক্রবার কিছু হোটেল তাঁরা বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবারও এই অভিযান
চলবে।
একটি হোটেলের ম্যানের আশিষ পাত্র
মেনে নিয়েছেন, মহিলারা তাঁদের হোটেলে এসে সেটি বন্ধ রাখার কথা বলেছেন। এই
পরিস্থিতিতে তাঁরা কি করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না। করোনা নিয়ে এখনও সবার মধ্যেই
যে আতংক রয়েছে তার জন্যই এমনটা বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে নারী কল্যান সমিতির
সদস্যারা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবী না মানলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
প্রয়োজনে আগামী কাল শনিবার বিকেল ৩টায় নারী কল্যান সমিতির তরফে দিঘা সমূদ্র তটে
প্রতিবাদ মিছিল সংঘটিত হবে বলেও জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্বরা।

No comments